বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

আবারো চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতা: বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নারীর মৃত্যু

প্রকাশিত: ২০২৫-০৫-২১ ২১:৪০:০৬

News Image

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অল্প বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম শহরের  বিভিন্ন এলাকা। বৃষ্টিপাত থামার কয়েক ঘণ্টা পর সড়কে জমে থাকা পানি নেমে যায়। কিন্তু  সড়কের বিভিন্ন স্থানে জমে রয়েছে ময়লার স্তুপ। এতে করে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। পথচারী এবং গাড়ি চলাচলেও বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। মঙ্গলবার রাত ৯টা থেকে নগরের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত শুরু হয়। কোথাও ভারী আবার কোথাও মাঝারি থেকে হালকা, থেমে থেমে বৃষ্টিপাত স্থায়ী ছিল রাত ১টা পর্যন্ত। ওই বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। কোথাও হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় সড়ক। আবার নিচু এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ির নিচতলায়ও পানি ঢ়ুকে পড়ে। অপরদিকে, জলাবদ্ধতার সময় বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে চলতি সপ্তাহে তিনজন মানুষ মারা গেছেন। 

 

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম শহরের  জিইসি, ২ নম্বর গেট, আগ্রাবাদ, হালিশহর, চকবাজার, বাকলিয়া, বহদ্দারহাট এলাকার বাসিন্দারা এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। এসব এলাকায় রাতে জরুরি কাজে বের হওয়া লোকজন যাতায়াতে সমস্যায় পড়েছেন। আবার বুধবার সকালে জমে থাকা সেই পানি নেমে গেলে সড়কে ময়লা দৃশ্যমান হয়। কোথাও কোথাও ময়লার স্তুপ দেখা যায়। আগ্রাবাদ, কাতালগঞ্জ, দেওয়ান বাজার, চকবাজার, হালিশহরের বিভিন্ন এলাকার সড়কে ময়লার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও পোস্ট দিয়ে লোকজন ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সকালে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের যাতায়াতেও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। ময়লার কারণে সৃষ্ট দুর্গন্ধে লোকজনকে নাকচেপে চলাচল করতে দেখা যায়।

 

হালিশহরের বাসিন্দা  আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রতিবার বৃষ্টি হলেই আমাদের এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যায়। কাল রাতেও বাসায় পানি ঢ়ুকে পড়েছিল। সকালে পানি নামলেও চারপাশে শুধু কাদামাটি আর ময়লার স্তূপ। এ ছাড়াও  বি- ব্লকের রাস্তাগুলোতে বৃষ্টি ছাড়াও পানি জমে থাকে। ড্রেনে পানি কিন্তু খালি পানি নেই।  বাচ্চাকে স্কুলে নিয়ে যেতে খুব কষ্ট হয়েছে। এই সমস্যার কোনো সমাধান হবে কি না, সন্দেহ আছে। ওই বিষয়ে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা আই ইউ এ চৌধুরী বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ময়লা অপসারণ করে ফেলছি। কোন কোন স্থানে ময়লা আছে আমাকে তথ্য দিন। আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি। 

 

অপরদিকে, চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতের কারণে জলাবদ্ধতায় বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস (৪৫) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চকবাজার থানার মেহেদীবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চমেক পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক নুরুল আলম আশেক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ১৮ মে চকবাজার থানার জিইসি মোড় এলাকায় মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পাশে বৃষ্টির পর জমে থাকা পানিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুজন নিহত হয়েছিলেন। তারা হলেন- মিরসরাই উপজেলার পূর্ব গোলমগরা এলাকার নুর জাহানের ছেলে তৈয়ব (৪৫) এবং কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার জাবিরপাড়া এলাকার হুমায়ুনের ছেলে রবিউল (১৪)।

 

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে ১৬ হাজার ৭৭১ কোটি টাকার চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রকল্পগুলোতে খাল পুনঃখনন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন, রেগুলেটর স্থাপন এবং সড়ক নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রকল্পের আওতায় থাকা খাল-নালা দীর্ঘদিন ধরে উন্মুক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে কোনো সময় নালায় তলিয়ে, আবার কোনো সময় জলাবদ্ধতার কারণে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে লোকজন মারা যাচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে কার্যকরী কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
 

Logo
Logo





Logo
Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭