প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩


জেলা খবর

নওগাঁর জেলার ঠাকুরমান্দা রঘুনাথ মন্দিরে রামভক্তদের মিলনমেলা

প্রকাশিত: ২০২৫-০৪-০৬ ২০:৪৩:১৮

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
রামের জন্মতিথির উৎসবে নওগাঁর জেলার, মান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ঠাকুরমান্দার রঘুনাথ জিউ মন্দির প্রাঙ্গণে ঢল নেমেছে হাজারও রাম ভক্তের।

 

(৬ এপ্রিল, রবিবার) ভোরে পুজা-অর্চনার পর ভক্ত-দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় মন্দিরের প্রবেশদ্বার।  

 

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবেও ঠাকুরমান্দার রঘুনাথ জিউ মন্দিরের বিশেষ পরিচিতি রয়েছে। কীর্তন, প্রসাদ বিতরণ, ভক্তদের পূজা-অর্চনা, ভোগ নিবেদন আর প্রসাদ দেওয়ার মধ্যদিয়ে উৎসব মুখর হয়ে উঠে মন্দিরের চারপাশ।

 

হাজার হাজার রামভক্ত ও দর্শনার্থীদের পদচারণায় মিলন মেলায় পরিণত হয় মন্দির প্রাঙ্গণ।  


স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মন্দিরের পূর্বপাশ দিয়ে বয়ে চলা শিবনদ একসময় ছিল স্রোতস্বিনী। নদে ভক্ত-দর্শনার্থীরা গঙ্গা স্নান করে ভেজা কাপড়ে বিল থেকে পদ্মপাতা তুলে মাথায় নিয়ে যেতেন ঠাকুর দর্শনে। কিন্তু শিব নদের সেই জৌলুস এখন আর নেই।

 

বিলে নেই পদ্মপাতা। এরপরও ভক্তরা আগের সেই রীতি এখনও মেনে চলার চেষ্টা করেন। শিব নদ ও বিলে পানি না থাকলেও মন্দির সংলগ্ন আশপাশের পুকুরে স্নানের পর মাটির পাতিলে ভোগের মিষ্টান্ন মাথায় নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে প্রভুর চরনের নিবেদন করেন ভক্তরা।  

 

এদিন দুপুরে রাম নবমীর উৎসবে যোগ দেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি শাহজাহান পিপিএম।

 

এ সময় নওগাঁ জেলা পুলিশ সুপার সাফিউল সারোয়ার, মান্দা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জাকিরুল ইসলাম, মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমানসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক সত্যেন্দ্রনাথ প্রামাণিক বলেন, রবিবার ভোরে পূজা অর্চনার পর মন্দিরের প্রবেশদ্বার খুলে দেওয়া হয়েছে। এরপর ভক্ত- দর্শনার্থীরা মন্দিরে প্রবেশ করেন। দুপুরে অন্ন ভোগ ছাড়াও ভক্তদের জন্য দিনভর পদাবলি কীর্তন ও রামের ভজন সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে।

 

মন্দির কমিটির সহ-সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার বলেন, রাম নবমীর উৎসবকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

এছাড়াও মন্দির কমিটির দুই শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী কাজ করছেন। আগামী ১৪ এপ্রিল লক্ষণ ভোজের মধ্যদিয়ে ৯ দিনব্যাপী ধর্মীয় এ উৎসব শেষ হবে।